
বাংলাদেশে নিরাপত্তার অভাব শুধুমাত্র ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুর মধ্যেই সীমিত নয়, বরং নারী, মাজার ও সুফি চিন্তাধারার মানুষ, ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জন্যও এটি সত্য বলে মন্তব্য করেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে বড়দিনের সময় খ্রিষ্টানদের উপর হামলা এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের ঘটনার জন্য বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের দায় দিতে হবে না।
শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার: বর্তমান বাস্তবতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন একতাবোধ না ধারণ করলে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশপ্রেম অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার বিষয়কে গুরুত্বসহকারে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অবস্থান কেমন হবে এবং নাগরিক অধিকার কিভাবে রক্ষা করা হবে—এগুলো এখন বোঝার বিষয়।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আন্দোলনকারীদের স্লোগান “সুশীলতার দিন শেষ, জবাব চায় বাংলাদেশ” তার মনে নাড়া দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু হত্যাকারীদের বিচার নয়, দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার কিভাবে রক্ষিত হবে, সেই জবাবও দিতে হবে।
সংলাপে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মনীন্দ্র কুমার নাথ, সভাপতিত্ব করেন নির্মল রোজারিও। এছাড়া বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সারা হোসেন, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রঞ্জন কর্মকার।